Categories
Uncategorized

দাখিল পাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, এক মেশিনেই নির্ণয় করতেন ৪২ রোগ!

নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলে পরিচয় দিতেন মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করা প্রতারক আকবর হোসেন। পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্র থানাপাড়ায় একটি বহুতল ভবনে গড়ে তুলেছিলেন কথিত চিকিৎসাকেন্দ্র। তার প্রতিষ্ঠানের একযন্ত্রে রোগীর হাত রেখেই ৪২ রোগ শনাক্ত করতেন, দিতেন ব্যবস্থাপত্র। এভাবে নিরীহ জনসাধারণকে প্রতারিত করা আকবরকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাত ১০টার দিকে পাবনা সদর থানার কাছে আটতলা ভবনের চারতলায় ইউনি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে তার বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

প্রতারক আকবর পাবনা পৌর সদরের নয়নামতি মহল্লার মৃত শমসের আলীর ছেলে। তিনি পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেন। গত একবছর ধরে এ প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন আকবর।

পুলিশ ও এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকবর হোসেন একটি বহুতল ভবনের তিনটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ছিলেন কথিত সর্বরোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। নিজেকে এলোপ্যাথিক ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসক বলে পরিচয় দিতেন। তিনি তার অফিসে কম্পিউটারের মাধ্যমে কথিত চিকিৎসা দিতেন। তার যন্ত্রে (স্ক্যানিং মেশিন) রোগীদের হাত রাখতে বলতেন। তিনি রোগীদের বলতেন- তিনি অন্তত ৪২টি রোগ তাৎক্ষণিক শনাক্ত করে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। সাধারণ রোগীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি চিকিৎসা ও ওষুধবাবদ হাতিয়ে নিতেন রোগীপ্রতি আট থেকে ১০ হাজার টাকা।

এদিকে আকবর হোসেন তার ব্যবসা চালু করার জন্য আকর্ষণীয় বেতনের লোভ দেখিয়ে জামানত নিয়ে প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষকে নিয়োগ দেন তার প্রতিষ্ঠানে। তার নিয়োগ করা স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন ছাড়াও রোগী নিয়ে আসতে পারলে কমিশন দিতেন।

ইউনি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের স্বাস্থ্যকর্মী ফারজানা লাবণী জানান, প্রতিষ্ঠান মালিকের কথায় বিশ্বাস করে তিনি তার বেশ কয়েকজন স্বজন ও প্রতিবেশীকে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য রাজি করিয়ে এই চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে আসেন। হাতের স্ক্যান করার জন্য এক হাজার টাকা ও পরে প্যাকেজ হিসেবে রোগনির্ণয় এবং ওষুধবাবদ আট থেকে ১০ হাজার টাকা করে নেয়া হয় তাদের কাছ থেকে।

ওষুধের কোর্স সম্পন্নের পরও কোনো রোগীই সুস্থ না হওয়ায় রোগীরা তাকে নানা প্রশ্ন করেন। তখন এ বিষয়ে তার মনে সন্দেহ হয় বলে তিনি জানান। একই ধরনের বাজে অভিজ্ঞতার কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্যকর্মী আবু তালেব, নাদিরা, আফরিন, শারমিন, সালমা, নাজমুল, আজিজুলসহ বেশ কয়েকজন।

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক স্বাস্থ্যকর্মী মনিরা পারভীন বলেন, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকের ডাক্তারিবিদ্যা নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় চাকরি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সবাই বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের বকেয়া বেতনও দাবি করেন। এতে আকবর হোসেন নানা টালবাহানা শুরু করেন। বিষয়টি তারা কয়েকজন সংবাদকর্মীকেও জানান।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) নাসিম আহমেদ জানান, ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার রাতে ইউনি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের অফিসে অভিযান চালায়। প্রতিষ্ঠানের মালিক ও পরিচালক আকবর হোসেন চিকিৎসাবিষয়ক কোনো ডিগ্রির সনদ দেখাতে পারেননি। তার প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের এমনকি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার কোনো অনুমতিপত্রও দেখাতে পারেননি। তিনি মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেছেন বলে জানান। তাহলে তিনি নামের আগে কীভাবে ডাক্তার লিখে চিকিৎসা দিচ্ছেন তারও সদুত্তর দিতে পারেননি।

ওসি আরও জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনায় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক স্বাস্থ্যকর্মী জাকির হোসেন বাদী হয়ে সদর থানায় প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আকবর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Categories
Uncategorized

দুই ছেলের অত্যাচারের বর্ণনা দিয়ে অঝোরে কাঁদলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ বাবা

তার বড় ছেলে একরামুল হক ব্যবসার কথা বলে কৌশলে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। একই সঙ্গে বাড়িটিও লিখে দেয়ার জন্য ছোট ছেলে আনোয়ার এবং একরামুল হক তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। নিরাপত্তাহীনতার একপর্যায়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী মেয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। পরে তারা বোনের বাসায় গিয়েও বাড়ি লিখে দেয়ার জন্য চাপ দেয় এবং মারধর করে।

গাজীপুরে দুই ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ও প্রাণনাশের ভয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বৃদ্ধ বাবা মো. জহিরুল হক (৭০)।

মঙ্গলবার একটি পত্রিকা অফিসে স্থানীয় সাংবাদিক ও দুই মেয়ের উপস্থিতিতে অঝোরে কেঁদে চোখ ভাসিয়েছেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে জহিরুল হক জানান, তিনি প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ২৭ বছর চাকরি করেছেন।

২০০৮ সালে গাজীপুর মহানগরের কামারজুরি এলাকায় ৫ কাঠা জমি ক্রয় করেন এবং অবসরের শেষ সম্বল দিয়ে তিনি একটি আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করেন।

তার বড় ছেলে একরামুল হক ব্যবসার কথা বলে কৌশলে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

একই সঙ্গে বাড়িটিও লিখে দেয়ার জন্য ছোট ছেলে আনোয়ার এবং একরামুল হক তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়।

নিরাপত্তাহীনতার একপর্যায়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী মেয়ের বাসায় আশ্রয় নেন।

পরে তারা বোনের বাসায় গিয়েও বাড়ি লিখে দেয়ার জন্য চাপ দেয় এবং মারধর করে।

এতে জহিরুল হক রাজি না হওয়ায় তারা গত ২৬ জুন অন্য লোককে বাবা সাজিয়ে টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গোপনে বাড়ি লিখে নেয় এবং জহিরুল হককে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এ ঘটনায় ২৪ জুলাই গাজীপুর মেট্রোগাছা থানায় অভিযোগ করা হলে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেনের সহযোগিতায় বাড়ির দখল বুঝে পায়। পুলিশ ছোট ছেলে আনোয়ারকে গ্রেফতার করে।

কিন্তু বড় ছেলে একরামুল হক পলাতক থাকায় সে গোপনে এসে জহিরুল হককে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দেয়।

এ অবস্থায় জহিরুল হক তার জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় প্রসাশন ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Categories
Uncategorized

উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে সোচ্চার কানাডা, প্রতিবাদ চীনের

দীর্ঘ দিন ধরে জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসকারী উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে চীন। জোর করে বন্দিশিবিরে আটকে রাখার পাশাপাশি উইঘুর নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানোর অভিযোগও রয়েছে। এসবের প্রতিবাদে আবারও সোচ্চার হয়েছে কানাডা। উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে চীনের নীতির কড়া সমালোচনা করা হয়েছে দেশটির সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়েছে, উইঘুরদের ধরে শিবিরে আটকে রাখা হয়, তাদের দিয়ে জোর করে কাজ করানো হয়। তারা সবসময় রাষ্ট্রের নজরদারিতে থাকেন। এছাড়া তাদের জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রণও করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, উইগুরদের বিরুদ্ধে চীন গণহত্যার নীতি নিয়েছে। তারা উইঘুরদের সংস্কৃতি ও ধর্ম মুছে দিতে চায়।

এদিকে কানাডার এই প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়ে, এই প্রতিবেদন ভিত্তিহীন। কানাডা কখনোই চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ওই এলাকার রাজনৈতিক স্থায়িত্ব, আর্থিক বৃদ্ধি, জাতিগত ঐক্য ও সামাজিক সৌহার্দ্যকে দেখেনি কানাডার সংসদীয় কমিটি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, কানাডার এই প্রতিবেদন মিথ্যা ও ভুল তথ্যে ভরা। প্রতিবেতন থেকে বোঝা যাচ্ছে, কমিটির সদস্যরা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।

সম্প্রতি কানাডা ও চীনের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে চীনের এক বড় টেলিকম কোম্পানির প্রতিনিধিকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয় কানাডা। চীনও কানাডার এক সাবেক কূটনীতিক ও একজন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে।

অক্টোবরের প্রথম দিকে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, চীন ‘হোস্টেজ ডিপ্লোমেসি’ করছে। গত কয়েক মাসে আরও খারাপ হয়েছে দুই দেশের সম্পর্ক। চীনের মানবাধিকার ভঙ্গ, হংকং ও উইঘুরদের নিয়ে সোচ্চার হয়েছে কানাডা।

Categories
Uncategorized

২৩ বছরের জীবনে পুলিশের হাতে ১১৬ বার গ্রেফতার

মাত্র ২৩ বছরের জীবনে ১১৬ বার গ্রেফতার হয়ে রেকর্ড গড়লেন চিলির এক নাগরিক।

চলতি সপ্তাহে একটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় সবশেষ গ্রেফতার হন তিনি। রিমান্ডে নেয়ার আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতার ও থানা-আদালতে অসংখ্যবার যাওয়ার রেকর্ড থাকলেও এদিন তাকে গৃহবন্দি করার নির্দেশ দেন আদালত।

পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে সহিংসতা, মারামারিসহ বিভিন্ন কারণে শতাধিকবার জেল খেটেছেন ওই ব্যক্তি।

Categories
Uncategorized

চীন খুবই নোংরা; ভারত ও রাশিয়ার বাতাস দূষিত: ট্রাম্প

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীনের দিকে দেখুন, দেশটি খুবই নোংরা। ভারত ও রাশিয়া দিকে দেখুন। সেখানকার বাতাস দূষিত। আমি প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছি কারণ এর নামে আমাদের হাজার হাজার কোটি ডলার নেওয়া হচ্ছিল কিন্তু অন্যায় আচরণ করা হচ্ছিল।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেনের সঙ্গে শেষ নির্বাচনি বিতর্কে তিনি এসব কথা বলেন।

প্যারিস চুক্তির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ওই চুক্তির জন্য আমি হাজার হাজার কোম্পানির ক্ষতি করতে পারব না। লাখ লাখ চাকরির সুযোগও নষ্ট করতে পারব না। তেমন করলে খুবই অন্যায় হবে।

Categories
Uncategorized

২ হাজার আজারবাইজানী পরিবারকে খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছে তুরস্ক

আর্মেনিয়ান বাহিনীর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার আজারবাইজানীয় পরিবারের জন্য ৪০ টন খাদ্য সহায়তা প্রেরণ করেছে তুরস্কের সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (টিআইকিএ)।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকু পৌঁছেছে তুরস্কের এ মানবিক সহায়তা।

এ খাদ্য সহায়তা তাতার, অগাদম এবং বারদা শহরে বসবাসরত ২ হাজার পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

বাকুতে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত এরকান ওজোরাল বলেছেন, তুরস্ক সুখে-দুঃখে আজারবাইজানের পাশে আছে এবং থাকবে।
তুরস্ক ও আজারবাইজান ‘দুটি দেশ, একটি জাতি’ এই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওজোরাল বলেন, আমরা তার নিজের জমি বাঁচানোর লড়াইয়ে আজারবাইজানকে পুরোপুরি সমর্থন করি। আমাদের সমর্থন কেবল আমাদের ভাই হওয়ার কারণে নয়, তাদের লড়াই ন্যায়সঙ্গত হওয়ার কারণেও।

Categories
Uncategorized

রুহুল আমিন গাজীকে মুক্তির আল্টিমেটাম

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজীকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আজকের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে মুক্তির আল্টিমেটাম দি‌য়ে‌ছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচি পালন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাব চত্ত্বরে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ আল্টিমেটাম দেন।

বি‌ক্ষোভ সমা‌বে‌শে প্রেসক্লা‌বের সা‌বেক সভাপ‌তি সি‌নিয়র সাংবা‌দিক শওকত মাহমুদ ব‌লে‌ন, রুহুল আমিন গাজীকে গতকাল (বুধবার) গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা জানি হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিনে আছেন এবং নিম্ন আদালতে সেটা কনফার্ম করেছেন। কিন্তু সেই মামলার হাজিরার দোহাই দিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশ্চর্য হয়ে যাই একজন সাংবাদিক নেতাকে বিনা নোটিশে, তাকে না জানিয়ে এভাবে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি আরো বলেন,সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য মিথ্যা মামলায় যাদের আটক করে রাখা হয়েছে সবাইকে মুক্তি দিতে হবে। এবং আজকের মধ্যে রুহুল আমিন গাজীকে যদি মুক্তি দেয়া না হয় তাহলে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ ঘরে বসে থাকবেন না, রাজপথে নেমে আসবে। এবং এই আন্দোলন একসময় গণমুক্তির আন্দোলনে রূপ নিবে।

এ সময় তিনি জাতীয় প্রেসক্লাব সহ অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠন‌কে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা এই প্রতিবাদের মাধ্যমে সরকারকে জানিয়ে দেই এবং ভবিষ্যতে যে সরকার আসবে তাকেও জানিয়ে দেই, সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন মেনে নেয়া হবে না।

ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী বলেন,আজকের মধ্যে যদি সাংবা‌দিক নেতা রুহুল আমিন গাজীকে মুক্তি দেয়া না হয়, তাহলে লাগাতার কর্মসূচি করা হবে এবং রুহুল আমিন গাজীসহ সব সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে ডিইউজের উদ্যোগে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, জাতীয় প্রেসক্লাব ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, বিএফইউজের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুল আমিন রোকন, ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত ও রাশেদুল হক, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি একেএম মহসীন প্রমুখ।

Categories
Uncategorized

গণধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রীর মাকে ‘পেটালেন’ ইউপি সদস্য

বাড়ী যাওয়া পথে এক কলেজ ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই কলেজ ছাত্রী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্তরা হলেন-উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের নজরুল, মানিকনগর গ্রামের মোস্তাজুল ও শাহিনুর।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই কলেজ ছাত্রী জানান, বুধবার দুপুরের পর তিনি কলারোয়া বাজারে যান বাড়ির নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করার জন্য। জিনিসপত্র কেনাকাটা শেষে তিনি সন্ধ্যার পর জয়নগর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের বলফিল্ডের পাশের ইটের রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় ওই তিন যুবক মোটরসাইকেল যোগে এসে তার গতীরোধ করে তাকে সেখানকার একটি বাগানে নিয়ে যায়। এরপর তারা তাকে মুখে কাপড় (স্কাফ) ঢুকিয়ে ছুরি ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাতেই সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ধর্ষিতার মা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনা শোনার পর পরই তিনি ঘটনাস্থলে যাওয়ার যান। সেখানে স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিরুল ‘ধর্ষকদের’ পক্ষ নিয়ে তাকে মারধর করেন। তিনিও বর্তমানে সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এদিকে, এ ঘটনায় যাতে মামলা না হয় সেজন্য ধর্ষকরা তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে তারা জানান। তবে, তারা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে আরো জানান।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ওই কলেজছাত্রীর চিকিৎসা চলছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন।

কলারোয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হারান চন্দ্র পাল জানান, এ ঘটনায় থানায় এখনও পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেননি। তবে, তিনি এ রকম একটি ঘটনা শুনেছেন এবং তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে তিনি জেনেছেন।

Categories
Uncategorized

ক্রাইম পেট্রোল দেখেই সাতক্ষীরায় ৪ জনকে হত্যা

বিবাহ বিচ্ছেদ আর বেকারত্ব নিয়ে ১১ মাস ধরে ছিলেন বিপর্যস্ত। তার ওপর ভাই-ভাবিও করতেন অপমান-অপদস্ত। পরে পরিত্রাণের পথ হিসেবে ভারতীয় টিভি চ্যানেলে ক্রাইম পেট্রোল দেখে করেন তাদের হত্যার পরিকল্পনা। শাহিনুর-সাবিনাকে হত্যার দৃশ্য দেখে ফেলায় প্রাণ দিতে হয় তাদের শিশু সন্তানকেও। আদালতে দায় স্বীকার করে দেয়া জবানবন্দিতে এসব কথা জানিয়েছে সাতক্ষীরার ৪ খুন মামলার একমাত্র আসামি রাহানুর।

১৫ অক্টোবর সাতক্ষীরার কলারোয়ায় হত্যা করা হয় মাছ ব্যবসায়ী শাহিনুর, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। চার মাসের আরেক শিশুর কান্নায় দরোজা কুলে সে হত্যাকাণ্ডের প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী ছোট ভাই রাহানুর।

পরে শাহিনুরের শাশুড়ি মামলা করলে গুরুত্ব বিবেচনায় তা হস্তান্তর করা হয় সিআইডিতে। পুলিশকে খবর দেয়া রাহানুরকেই জড়িত সন্দেহে করা হয় আটক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দায় স্বীকার না করায়, নেয়া হয় রিমান্ডে। এসয় তার স্বীকারোিক্ত মেলায় হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ও পোশাক উদ্ধার করে হয় ফরেনসিক টেষ্ট। এতেই প্রমাণ হয় রাহানুরের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি।

রাহানুর আরও জানায়, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর বেকার হয়ে পড়ে সে। তখন ভরনপোষণ চালাতের বড় ভাই শাহিনুর। সে কারণে তাকে হতে হয়েছে অপমান-অপদস্তও। এই মানসিক নির্যাতন থেকে বাঁচতেই ক্রাইম পেট্রোল দেখে ভাই-ভাবির ওপর প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করে সে।

হত্যার পর সুকৌশলে চাপাতি ফেলে দেয় দূরের ডোবায়। সন্দেহ এড়াতে নিজেকে করে সাফ-সুতরো।

এ ধরনের অপরাধ থেকে বাঁচতে ক্রাইম পেট্রোলের মতো অনুষ্ঠান দেখা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি।

Categories
Uncategorized

নামাজ পড়তে পারেন না বলে অভিনয় ছেড়ে দিলেন নায়িকা মুক্তি

আনোয়ারা ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেত্রী। এদেশের সিনেমাপ্রেমীদের কাছে সাদাকালো নবাব সিরাজ-উদ-দৌল্লার আলেয়া কিংবা সাদাকালো দেবদাসের চন্দ্রমুখী চরিত্রে আনোয়ারার নাম থেকে যাবে চিরদিন।

এছাড়া পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন অনেক কালজয়ী সিনেমার দুর্দান্ত চরিত্র। তার কন্যা রুমানা রাব্বানি মুক্তি। তিনিও মায়ের পথ ধরে সিনেমায় নাম লিখিয়েছিলেন।

১৯৯৩ সালে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু করেন মুক্তি। আলোচনায় আসেন একই বছরের সিনেমা ‘চাঁদের আলো’ দিয়ে। ওমর সানীর বিপরীতে এই সিনেমায় আলো চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

মুক্তি দর্শক মুগ্ধ করেছেন হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত চলচ্চিত্র ‘শ্রাবণ মেঘের দিনে’ জমিদারের বড় নাতনির চরিত্রে। এখানে শাহানারূপী মুক্তিকে দর্শক মনে রাখবেন অনেকদিন। কাজ করেছেন তিনি হেলাল খানের বিপরীতে ‘হাছন রাজা’ সিনেমাতেও। কাজ করেছেন কিছু নাটক-টেলিছবিতেও।

সেই মুক্তি অভিনয়ে নেই পাঁচ বছরেরও বেশি সময়। কেন? এই প্রশ্ন এসেছে ঘুরেফিরে বারবার। সঠিক জবাব মেলেনি কখনো। অবশেষে নায়িকা নিজেই জানালেন তার অভিনয় ছাড়ার কারণ।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানিয়েছেন, নামাজ পড়তে অসুবিধা হয় বলে পাঁচ বছর ধরে অভিনয় করেন না।

মুক্তি লিখেছেন, ‘অনেকই জিজ্ঞেস করে, আমি অভিনয় ছেড়ে দিলাম কেন? আসলে সময়মতো নামাজ পড়তে আমার অসুবিধা হতো। তাই প্রায় পাঁচ বছর হলো আমি অভিনয় ছেড়ে দিয়েছি।’

তার এই স্ট্যাটাসের নিচে অনেকেই এই সিদ্ধান্তের জন্য তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকে মন খারাপ করে মুক্তির অভিনয় মিস করবেন বলেও জানান।