Categories
Uncategorized

ব্যাংকের সাথে আঁতাত করে কাজ না করেই ২২ কোটি টাকা তুলে নিল ঠিকাদার

চট্টগ্রাম নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোর্ট কানেকটিং রোডের উন্নয়ন কাজের প্রায় ২২ কোটি টাকার বিল ব্যাংকের অগোচরে তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
নিয়মানুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে ঋণদাতা ব্যাংকের নামে চেক ইসু্যু করবে। কিন্তু সেই টাকা সরাসরি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দেয়া হয়। সরাসরি টাকা পেয়ে যাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাঝপথে কাজ ফেলে চলে যায়।

এ কারণে একদিকে ওই সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, অন্যদিকে ব্যাংকের ঋণও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অ্যাকাউন্টস বিভাগকে হাত করেই এই টাকা তুলে নেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রানা বিল্ডার্স লিমিটেড-সালেহ আহমেদ (জেভি) এই টাকা তুলে নেয়।

ইউসিবিএল কুমিল্লা শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখাপ্রধান ইমতিয়াজ হক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে এ বিষয়ে চিঠি দেন। ৭ অক্টোবর দেয়া চিঠিতে তিনি জানতে চান, জমা না হওয়া চেকগুলো কোন হিসাব বরাবর ইস্যু করা হয়েছিল এবং অ্যাসাইনমেন্টকৃত হিসাবে জমা কেন দেয়া হল না। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য চসিক প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোর্ট কানেকটিং সড়কের উন্নয়নে দুটি প্যাকেজে কাজ পায় মেসার্স রানা বিল্ডার্স লিমিটেড-সালেহ আহমেদ (জেভি)।

একক ও যৌথভাবে কাজ পায় প্রতিষ্ঠান দুটি। কাজের বিপরীতে ইউসিবিএল কুমিল্লা শাখা প্রতিষ্ঠান দুটিকে ঋণ দেয়। নিয়মানুযায়ী উন্নয়ন কাজের যে বিল হয়, তা অ্যাসাইনমেন্টকৃত ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী ৬টি চেকে ১৯ কোটি ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ২১৮ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। কিন্তু বাকি ১০টি চেকের বিপরীতে ২১ কোটি ৯১ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৭ টাকা ইউসিবিএলের হিসাবে জমা দেয়া হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কৌশলে এই টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে নিয়ে নগদায়ন করে ফেলে। টাকা তুলে নেয়ার পর করোনার অজুহাতে সড়কের উন্নয়ন কাজ ফেলে চলে যায়।

মাসের পর মাস উন্নয়ন কাজ না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক অর্ধনির্মিত ও সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে ছিল। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সদ্য সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকেও ঠিকাদারের অবহেলায় সৃষ্ট এই দুর্ভোগের দায় নিতে হয়। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে এ জন্য দায়ী বা অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর খোরশেদ আলম সুজন পোর্ট কানেকটিং রোডের উন্নয়ন কাজ শেষ করাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনেকটা ‘জোর’ করেই ধরে এনে পুনরায় কাজে নিয়োজিত করেন। বর্তমানে উন্নয়ন কাজ পুরোদমে চললেও আলোচ্য দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে উন্নয়ন কাজের জন্য ইউসিবিএল ব্যাংক যে ঋণ দিয়েছে, সেই ঋণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে দাবি করে ব্যাংক। তাই ঋণ সমন্বয় করতে প্রাপ্য বিল অ্যাসাইনমেন্টকৃত হিসাবে জমা দেয়ার জন্য প্রশাসকের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘দ্রুত কাজ করার স্বার্থে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই উন্নয়ন কাজের টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছিল। এখানে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।

তাছাড়া ওই কাজের বিপরীতে আরও যে টাকা বা বিল প্রাপ্য হবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সেই টাকার অঙ্ক ঠিকাদারকে ব্যাংকের দেয়া ঋণের চেয়েও বেশি। এই টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অ্যাসাইনমেন্টকৃত হিসাবে জমা দেয়ার সুযোগ আছে। এতে ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকিতে পড়ার বা ঋণ হিসাবগুলোর সমন্বয় অনিশ্চিত হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই। তাছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ সিকিউরিটি মানিও রয়েছে চসিকের কাছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *