Categories
পূর্ব পশ্চিম

নায়ক থেকে ‘ভিলেন’ এসআই আকবর

সুন্দর চেহারা, দেখতে নায়কের মতো। পুলিশের চাকরি করলেও বাস্তবে সত্যিই নায়ক। কিন্তু পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিন (৩০) নামে যুবককে পি’টিয়ে হ’ত্যার ঘটনায় রাতারাতি নায়ক থেকে ‘ভিলেন’ বনে গেছেন সিলেট নগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া।
চলচ্চিত্র জগতে পা না রাখলেও সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত নাটকে নায়কের অভিনয় করতেন এসআই আকবর। ইউটিউব চ্যানেলে সিলেটি ভাষায় নাটক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিন বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বেশ কয়েকটি নাটকে তিনি পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয়ও করেছেন। ‘গেইমওভার’ ও ‘গরীবের দেব’ নামে নাটক করে পরিচিতিও পেয়েছেন বেশ।

দেশের মানুষের কাছে এখন তিনি ‘রায়হানের হ’ত্যাকারী’ হিসেবে পরিচিত। হ’ত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করে তার শাস্তির দাবিতে সরব সিলেটের মানুষ।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে রায়হান উদ্দিন (৩০) নি’হত হন। পুলিশের দাবি, ছিনতাইয়ের দায়ে নগরীর কাস্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে তিনি নি’হত হন। অপরদিকে, রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাত’নে নি’হত হন রায়হান।
এজাহারেও এমন অভিযোগ তুলে ধরে কোতোয়ালি থানায় মা’মলা দায়ের করেছেন নি’হত রায়হান উদ্দিনের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। মা’মলার এজাহারে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাত’ন করে হ’ত্যার অভিযোগ আনলেও কোনো আসা’মির নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এছাড়া, নি’হতের সৎ বাবা হাবিবুল্লাহ চৌধুরীও এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া ফাঁড়িতে উপস্থিত ছিলেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে শনাক্ত করেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রায়হানের বাড়িতে যান সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ার ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন হাবিবুল্লাহ।
তিনি বলেন, সকালে ফাঁড়িতে যাওয়ার পর এক পুলিশ সদস্য আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চান। এসময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এসআই আকবর। তখন তিনি সাদা পোশাকে ছিলেন ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তিনি আমাকে বলেন, রায়হান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানকে পি’টিয়ে হ’ত্যার অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ। অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) শাহরীয়ার আল মামুনকে প্রধান করে এসএমপির কোতোয়ালি থানার সহকারী কমিশনার নির্মল চক্রবর্তী ও বিমানবন্দর থানার সহকারী কমিশনার প্রবাস কুমার সিংহকে কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়। তাদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এসআই আকবরসহ চার পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
সিলেট নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাত’নে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত কমিটির সুপারিশে এসআই আকবরসহ চার পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *